মিডিয়া ফিলোসফি : কি করে মিডিয়া বোকা বানায়, কিন্তু স্মার্ট ভাবায় Dr. Opurbo Chowdhury. London, England


সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকে এখন দেখে এবং দেখায় । কি দেখে তাও জানে না, কি দেখায় তাও বোঝে না ।

সেলিব্রিটিরা দেখায় তাদের মিডিয়া বিজনেজ চাঙ্গা রাখতে । লোকে তাদের শিশুসুলভ ক্যারিকেচার যতবেশি দেখে, ততবেশি পয়সা আসে ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকে ভাবে তারা ভোক্তা ! এটি ভুল ! এখানে প্রতিটি মানুষ নিজেই এক একটি পণ্য । এখানে নিজের ভালো লাগা বলে কিছু নেই । তাকে যে ভালোটি লাগানো হয়, তার পেছনে সময় খরচ করে সে বিনিয়োগ করে । তার বিনিয়োগকৃত সময় সোশ্যাল মিডিয়াগুলো অন্যের কাছে বিক্রি করে । এমন করে প্রতিটি মানুষ এখানে ভোক্তা হয়ে ঢুকে, পণ্য হয়ে বের হয় ।

চক্রটি বুঝা এতো সহজ নয় । কারণ, বুঝতে যাতে না পারে সহজে, তারচেয়ে. ভিন্ন একটি চক্রে ফেলে সেটি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয় ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসা করতে যারা আসে, তারা দেখাতে আসে । কারণ ওটা তাদের পুঁজি । সেলিব্রিটিরা দেখায় সেলেব্রিটি বিজনেজ ধরে রাখতে । অন্যরা দেখে তাদের স্বপ্ন চাঙ্গা রাখতে, একদিন তারাও সেলেব্রিটি হবে এই আশায় ।

যার অনেক আছে এবং যার কিছুই নেই, দু পক্ষই এখানে একই ।

একুশ শতকের এই মিডিয়া নার্সিসিজম শুরু হয়েছিল সেলফি রেভুলুশান দিয়ে । দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ট্রাভেল এন্ড ট্যুর হয়ে গিয়েছিলো প্লেজার ট্রিপ ফর পিক । ছবি তোলা । মানুষের মাথায় এসব ঢুকাতে বিজ্ঞাপনের পেছনে ছিল কোডাক । তার আগে ভ্রমণ ছিল স্বাস্থ্যের জন্যে বায়ু পরিবর্তন । নিজের বসবাসের জায়গার আশেপাশের চেয়ে নতুন জায়গায় ছবি তোলার পেছনে ছিল ছবি দেখানোর আকর্ষণ । ক্লাস স্ট্রাগল ।

এমন ভ্রমণ করে ছবি তুলতে পারা তখন ভাবা হতো সোশ্যাল আপার ক্লাসের ইঙ্গিত ।

সেলফি আর সহজলভ্য ফোন এসে সবাইকে একই কাতারে ফেলে দিলো । কিন্তু যার অনেক আছে দেখানোর, সে এটা মনে মনে মানে না । সে ভাবে, আমি কেন সমান হবো । ঘুষ খেয়ে হোক, অন্যায় করে হোক, আমারতো অনেক আছে ! কেউতো জানছে না আমি কেমন করে পেয়েছি ! নৈতিকতার নীতিকথা এখানে ব্যঙ্গ । নিজের ক্লাসের মধ্যে নিজেকে আপ দেখাতে প্রতিনিয়ত সে তখন তপড়ায় । আবার একই সাথে অন্যকে তার চেয়ে বেশি দেখানো দেখে নিজে আড়ালে তপ্ত হতে থাকে । এমন তপড়া এবং তপ্তের খেলায় প্রতিনিয়ত তার চাহিদা বাড়তে থাকে । নিত্য নতুন কৌশল খুঁজে নিজের ক্লাস আইডেন্টিটি প্রকাশ করতে, একই সাথে নিত্য নতুন কৌশলের শিকার হয় অন্যের দেখানো আইডেন্টিটির মুখোমুখি হয়ে ।

সোশ্যাল মিডিয়ার সাইকোলোজিক্যাল ফিলোসফি হলো – অন্যকে নিজের টা দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিক উতক্ত্য করা, একই সাথে অন্যের টা দেখে নিজে উত্তপ্ত হওয়া । উত্তক্ত্য এবং উত্তপ্ত দুটো ভিন্ন জিনিস ।

নিজেকে বড়ো দেখিয়ে অন্যের মাঝে হিংসা তৈরি করা এবং অন্যের দেখানো নকল বড়ত্ব দেখে নিজে হিংসিত হওয়া । এমন অসুস্থ খেলায় সামাজিক মাধ্যমে মানুষগুলো ঘুরপাক খায় ।

নিজে নিজের অসুস্থতা বুঝতে পারে তখনই, যখন চারপাশে সুস্থ মানুষ থাকে । কিন্তু চারপাশে যখন অসুস্থতার ভিড়, সেই মিছিলে নিজের অসুস্থতা আলাদা করা অনেক কঠিন কাজ ।

কেউকে না কেউকে এ কথাগুলো বলতে হয় । কারণ, তিনি বুঝতে পারেন মিডিয়া কি করে মানুষগুলোকে বোকা বানায়, কিন্তু মনে তাদের ভাব দেয় – তারা যেন অনেক স্মার্ট হয়ে যায় !



February 8th, 2021